শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

চলন্ত ট্রেনে প্রসববেদনা, চিকিৎসকের সহায়তায় ট্রেনেই সন্তান জন্ম দিলেন নারী

আজ রোববার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও তালশহর এলাকার মাঝামাঝি চলন্ত ট্রেনে ওই প্রসূতি সন্তানের জন্ম দেন।

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
চলন্ত ট্রেনে প্রসববেদনা, চিকিৎসকের সহায়তায় ট্রেনেই সন্তান জন্ম দিলেন নারী

স্টাফ রিপোর্টার।।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে আন্তনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে ফুটফুটে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন জান্নাতুন (৩০) নামের এক নারী। আজ রোববার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও তালশহর এলাকার মাঝামাঝি চলন্ত ট্রেনে ওই প্রসূতি সন্তানের জন্ম দেন।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সহায়তায় ওই প্রসূতিকে পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে নামিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। জান্নাতুন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার বাসিন্দা ইকবাল মিয়ার স্ত্রী। পেশায় ব্যবসায়ী ইকবাল আজ বিকেল চারটায় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনে ওঠেন। এটি তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। নবজাতকের ওজন তিন কেজি।

রেলওয়ে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ড’ বগিতে ছিলেন ইকবাল-জান্নাতুন দম্পতি। ট্রেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশন অতিক্রম করার পর জান্নাতুনের প্রসববেদনা ওঠে। ট্রেনটি আশুগঞ্জ স্টেশন অতিক্রম করার পরপরই বগিতে থাকা এক নারী চিকিৎসকের সহায়তায় একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ওই প্রসূতি। ট্রেনের কর্মকর্তারা বিষয়টি রেলওয়ের কন্ট্রোল রুমে জানালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত মাস্টার জসিম উদ্দিনসহ নিরাপত্তাকর্মীরা প্রসূতি ও তাঁর স্বামীকে গ্রহণ করেন। পরে তাঁদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়।

নবজাতকের বাবা ইকবাল মিয়া  বলেন, ‘প্রসববেদনা ওঠার পর ভাগ্যিস বগিতে একজন মহিলা চিকিৎসক ছিলেন। ট্রেনেই আমার স্ত্রী সন্তানের জন্ম দিয়েছে। পরে রেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। বর্তমানে মা ও শিশু সুস্থ আছে। এটি আমার দ্বিতীয় সন্তান।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স স্মৃতি রানী রায় ও মর্জিনা আক্তার বলেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওই প্রসূতি হাসপাতালে আসেন। নবজাতকের নাভিতে কর্টক্লিপের পরিবর্তে মাথার চুলের ক্লিপ লাগানো ছিল। এতে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে ইনজেকশন দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়। শিশুর ওজন তিন কেজি। প্রাথমিক অবস্থায় নবজাতকসহ মায়ের জরুরি ও প্রাথমিক ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে। পৌনে আটটার দিকে তাঁরা হাসপাতাল থেকে চলে যান।

স্বজনেরা জানান, প্রসূতি জান্নাতুনের সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল আগামী মাসে। প্রসবের কথা ভেবেই স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন ইকবাল মিয়া। পথে চলন্ত ট্রেনে নবজাতকের জন্ম হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নবজাতকের বাবা আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত মাস্টার জসিম উদ্দিন  বলেন, ঢাকার কন্ট্রোল রুমের নির্দেশে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। ট্রেনে এক প্রসূতি মা একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ট্রেন ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশন অতিক্রম করার পর প্রসূতির প্রসববেদনা ওঠে। পরে ট্রেনেই তিনি সন্তানের জন্ম দেন।

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net