খেলা ডেস্ক।।
দিনের শুরুটা ভালো হলেও শেষটা হলো বিষাদের। বৃহস্পতিবার সকালে অস্ট্রেলিয়াকে অল্পতে বেঁধে ফেলার সুযোগ পেয়েছিলে বাংলাদেশ। ৪৮ রানে ৪ উইকেট তুলে নেওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দল শেষ পর্যন্ত ২১৪ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে। যে দলে এলিসা পেরি, অ্যাশলে গার্ডনার, অ্যালানা কিংয়ের মতো বোলিং আক্রমণ আছে, তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের লড়াইটা সহজ হওয়ার কথা নয়। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। প্রথম ওয়ানডেতে ৯৫ রানে থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস। আর তাতে ১১৮ রানের বড় ব্যবধানে হার দিয়ে শুরু হলো স্বাগতিকদের সিরিজ।
সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক। ওয়ানডে ক্রিকেটে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজে তারা মুখোমুখি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই স্কিলের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা বাংলাদেশের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে। সেই জায়গা থেকে দলের ক্রিকেটারদের কাছে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। তারপরও ২১৪ রানের জবাবে খেলতে নেমে বাংলাদেশের ৯৬ রানে অলআউট হওয়াটা বেশ হতাশাজনক বটে। নিগার সুলতানা জ্যোতিরা শেষ ৮ উইকেট হারিয়েছে ২৫ রানে।মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। এমনিতেই স্পিন বান্ধব উইকেট, তার মধ্যে আগের রাতে বৃষ্টির প্রভাবও ছিল। সবকিছু মিলিয়ে উইকেট বেশ স্লো ছিল। এই অবস্থায় অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ইতিবাচকই ছিল। বাংলাদেশ শুরুটাও করেছিল দারুণ। মাত্র ৪৮ রানে অজিদের টপঅর্ডার গুড়িয়ে দিয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল তারা। পঞ্চম উইকেটে ৩০ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন বেথ মুনি ও অ্যাশলে গার্ডনার জুটি। ৬৪ বলে ২৫ রানের সংগ্রামী ইনিংস খেলেন মুনি। পরে অবশ্য হাল ধরেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। বিশেষ করে অষ্টম উইকেটে অ্যালানা কিংকে সঙ্গে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৬৭ রানের জুটি গড়েন তিনি।
সাদারল্যান্ড ৭৬ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। অন্যদিকে ফাহিমা খাতুনকে শেষ ওভারে চার ছক্কা ও এক চার মেরে ২৯ রান তুলে নেন অ্যালানা। আর তাতে অজিরা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান তোলে। গার্ডনারের ব্যাট থেকে আসে ৩২ রানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার এতো রানে হওয়ার পেছনে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ভূমিকাও কম নয়। তাদের মিস ফিল্ডিংয়ে বেশ কিছু রান বেরিয়ে গেছে। পাশাপাশি তিনটি ক্যাচও মিস করেছেন তারা।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সুলতানা খাতুন ও নাহিদা আক্তার নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া মারুফা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন একটি করে উইকেট নেন।
