বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে ত্রিপুরার বাণিজ্য

by ঢাকাবার্তা
ত্রিপুরায় যাচ্ছে বাংলাদেশি পণ্য। ফাইল ফটো

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অর্থনীতি অনেকাংশেই বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। রাজ্যটির ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি বড় অংশই বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৯৪ কোটি টাকা। একই সময়ে ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকার পণ্য। মঙ্গলবার রাজ্যের ‘দেশের কথা’ পত্রিকা এ তথ্য প্রকাশ করে।

ত্রিপুরার বাজার প্রায় পুরোপুরি বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিনিয়তই মাছ, সিমেন্ট, এলপিজি, হালকা পানীয়, পিভিসি পাইপ, প্লাস্টিক সামগ্রী এবং পরিশোধিত পাম তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাংলাদেশ থেকে আমদানি করছে রাজ্যটি। অপরদিকে, ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয় জিরা, আদা, পেঁয়াজ, তেঁতুলসহ কিছু মসলাজাতীয় পণ্য।

ত্রিপুরা বিধানসভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০০৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮৯৪ কোটি টাকা। ত্রিপুরার অর্থনীতি মূলত বাংলাদেশি পণ্য সরবরাহের ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে।

অপরদিকে, ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে রপ্তানির পরিমাণ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ১৭৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে ১৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এটি কিছুটা বেড়ে ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা হয়েছে। এটি স্পষ্ট যে, ত্রিপুরা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে এবং মূলত বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ওপরই নির্ভরশীল।

বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে মাছই শীর্ষে রয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ৩৮১ কোটি ৪৮ লাখ টাকার মাছ রপ্তানি হয়। পরবর্তী দুই অর্থবছরে এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। মাছের পরই রয়েছে এলপিজি, সিমেন্ট, পিভিসি পাইপ, প্লাস্টিক সামগ্রী, ইস্পাত শিট, রড, স্বাদযুক্ত পানীয়, খাদ্য সামগ্রী, কাঠ ও ধাতুর আসবাবপত্র। এসব পণ্যের সরবরাহ বন্ধ হলে ত্রিপুরার অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।

ত্রিপুরা বিধানসভার তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রধান স্থলবন্দর আখাউড়া-আগরতলা ছাড়াও মনুঘাট, মুহুরিঘাট, শ্রীমন্তপুর, পুরাতন রাঘনা বাজার, খোয়াইঘাটসহ ৮টি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। ত্রিপুরার অর্থনীতি কার্যত এই বাণিজ্যের ওপরই নির্ভরশীল।

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net