স্টাফ রিপোর্টার ।।
তালিকাভুক্ত চামড়া খাতের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আগের বছরের তুলনায় ভালো ব্যবসা করেছে। এই সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে বাটার আয় হয়েছে ৩৫৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৮০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এ সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকায়। আগের হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে নিট মুনাফা বেড়েছে ২ দশমিক ০১ গুণ।
প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৬ টাকা ৯২ পয়সা, আগের বছর ছিল ১৩ টাকা ৪২ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪৭ টাকা ১৫ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সমাপ্ত হিসাব বছরে বাটার পরিচালনা পর্ষদ ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর আগে কোম্পানিটি ওই হিসাব বছরের জন্য ৩৪০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ফলে ২০২৪ হিসাব বছরে মোট ৪৪৫ শতাংশ লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ বছর কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২১ টাকা ৬২ পয়সা এবং এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২০ টাকা ২২ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। ওই বছর ইপিএস ছিল ২৯ টাকা ৩১ পয়সা এবং এনএভিপিএস ছিল ২৩৭ টাকা ৯৩ পয়সা। তার আগের বছর ২০২২ সালে কোম্পানিটি ৩৬৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। ওই বছর ইপিএস ছিল ২৯ টাকা ৯৮ পয়সা, আগের বছর যেখানে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫ টাকা ১ পয়সা। ওই বছর এনএভিপিএস ছিল ২৫২ টাকা ১৬ পয়সা।
ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ (সিআরএবি) সর্বশেষ বাটার দীর্ঘমেয়াদি রেটিং ‘ট্রিপল এ (AAA)’ এবং স্বল্পমেয়াদি রেটিং ‘এসটি-১’ দিয়েছে। এ রেটিং নির্ধারণে কোম্পানিটির ২০২২ থেকে ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার সময় পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক গুণগত ও পরিমাণগত তথ্য বিবেচনা করা হয়েছে।
১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাটা সু কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ১ দশমিক ৩০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং বাকি ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে।
