স্টাফ রিপোর্টার ।।
ঢাকা জেলার মাথাপিছু আয়ের হিসাব নির্ধারণে ২০১১ সালের বিবিএসের জেলাভিত্তিক জিডিপি তথ্যকে ভিত্তি ধরে বিনিয়োগ, ভোগ, ব্যয়, আমদানি-রপ্তানি, আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তবে এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আলোচনায় উপস্থিত অনেকেই।
বিবিএসের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২০ ডলার—যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে ৮২ ডলার। তবে বিভাগ বা জেলাভিত্তিক মাথাপিছু আয়ের হিসাব বিবিএস করে না।
- ২০১১ সালের বিবিএস তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার মাথাপিছু আয়ের হিসাব অনুমান
- দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশই আসে ঢাকা জেলা থেকে
- মোট দেশজ আয়ে ঢাকার অবদান এককভাবে ৪৬ শতাংশ
- প্রতি তিন মাস অন্তর প্রকাশ হবে ইকোনমিক পজিশন ইনডেক্স (ইপিআই)
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সরকারি সিদ্ধান্তে ঢাকার অর্থনীতি গতিময়
- বৈশ্বিক সূচকের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের
- ইপিআই সূচক প্রাথমিকভাবে প্রকাশ পাবে শুধু ঢাকা জেলা ঘিরে
মাথাপিছু আয় ব্যক্তির একক আয় নয়; প্রবাসী আয়সহ দেশের মোট জাতীয় আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করেই এটি নির্ধারিত হয়। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আয় হিসাবের পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
ঢাকা চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী জানান, দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশ আসে ঢাকা জেলা থেকে। শিল্প, আর্থিক ও রপ্তানি খাতে জেলাটির অবদান সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশের মোট জিডিপিতে ঢাকার অবদান ৪৬ শতাংশ।
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে ‘ইকোনমিক পজিশন ইনডেক্স’ (ইপিআই) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা চেম্বার। প্রতি তিন মাস পরপর এই সূচক প্রকাশ করা হবে, যাতে শিল্প ও সেবা খাতের কর্মক্ষমতা ও পরিবর্তন চিহ্নিত হবে এবং সরকারি-বেসরকারি নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দেওয়া যাবে।
সভায় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে ব্যবসায়িক পরিবেশ পরিমাপের জন্য থাকা সূচকগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত পরিবর্তন তুলে ধরে না। এ কারণে হালনাগাদ তথ্যভিত্তিক ইপিআই সূচক প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা জেলাকে কেন্দ্র করে সূচকটি প্রকাশ করা হবে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে ঢাকার অর্থনীতি ‘ভালো’ গতিতে এগিয়েছে—এর স্কোর ছিল ০.৮০। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণেই এই উন্নতি ঘটেছে বলে জানানো হয়।
অতিথিদের মধ্যে সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, দেশীয় সূচকে অর্থনীতি ভালো দেখালেও বৈশ্বিক মানদণ্ডে এখনো নিচের দিকে। তাই তুলনামূলক বিশ্লেষণ জরুরি। অন্য সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ মাসিকভাবে ইপিআই প্রকাশ ও এর পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনপিওর মহাপরিচালক মো. নূরুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেসার আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক সৈয়দ মুনতাসির মামুন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ কে এম আতিকুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. দীন ইসলামসহ অনেকে।