স্টাফ রিপোর্টার ।।
জাতীয় নির্বাচন কবে হবে—এই প্রশ্নকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে গত কয়েক মাস ধরে যে অস্থিরতা চলছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণায় সেটি আপাতত কমেছে। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে যেকোনো দিন জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। যদিও বিএনপি এই সময়সীমা মেনে নেয়নি, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে একে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর মধ্যেই দেশের রাজনীতি-সচেতন মানুষের দৃষ্টি এখন লন্ডনের দিকে। কারণ, আগামী শুক্রবার সেখানে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য সাক্ষাৎকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, যুক্তরাজ্যে অধ্যাপক ইউনূসের এই সফর চূড়ান্ত হয় মে মাসের শুরুতেই। এরপর থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাতের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়। সবশেষ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সক্রিয় ভূমিকা এবং সরকারের আগ্রহে এই সাক্ষাতের দিনক্ষণ ঠিক হয়। সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এই সাক্ষাৎকে ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মনে করছেন, এই বৈঠকে নির্বাচন, সংস্কার এবং আলোচিত ‘জুলাই সনদ’সহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বোঝাপড়ার পথ খুলে যেতে পারে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই বৈঠক যদি হয়, তাহলে অনেক সমস্যা মিটে যেতে পারে এবং নতুন এক ডাইমেনশন তৈরি হতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ এবং এমন সাক্ষাৎ না হলে সমালোচনার সুযোগ তৈরি হতো।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, তারা এই সাক্ষাৎকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং আশা করছেন, নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হবে। ইতিমধ্যে জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো দলগুলো ভোটের সম্ভাব্য সময় ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তাদের মতে, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ বাস্তবায়নের পর নির্বাচনের দিন ঘোষণা হলে জনগণের প্রত্যাশা আরও বেশি পূরণ হতো।
রাজধানীতে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ানো এবং তা নিয়ে বিক্ষোভ ও সরকারবিরোধী অবস্থান রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এরপর ২৮ মে নয়াপল্টনে বড় সমাবেশে তারেক রহমান ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দাবি করেন। সেই প্রেক্ষাপটে ভোটের সম্ভাব্য সময় ঘোষণাকে বিএনপি সন্তুষ্টির সঙ্গে নেয়নি। তবে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আপাতত রাজপথ থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে বিএনপি।
ঈদের আগের রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনিও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন এবং বলেন, এখন রাজপথে যাওয়া সমীচীন নয়। পরদিন খালেদা জিয়া তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন এবং এরপরই স্থায়ী কমিটির সভায় এই সাক্ষাৎকে স্বাগত জানানো হয়।
সব মিলিয়ে লন্ডনের এই সম্ভাব্য বৈঠককে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক যদি হয় এবং ফলপ্রসূ হয়, তাহলে নির্বাচনের সময়, সংস্কার ও রাজনৈতিক সমঝোতার পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে।
