স্টাফ রিপোর্টার ।।
বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়—সাকিব আল হাসান কি আবারও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন? বিতর্ক, নাটক, রাজনৈতিক আবহ, আইনি জটিলতা—সবকিছুর ভেতর দিয়েই যেন সাকিবের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নবিদ্ধ। এই প্রশ্নটাই ঘুরে এল এবার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।
গতকাল (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানেই টেলিভিশন চ্যানেল টি স্পোর্টস তাঁকে জিজ্ঞাসা করে—বিএনপি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে সাকিব আল হাসান কি জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন?
মির্জা ফখরুলের জবাব ছিল, “সেটা সাকিবের ফর্মের ওপর নির্ভর করবে। তখন সে ক্রিকেটে থাকবে কি না, সেটার ওপর নির্ভর করবে। আমি কখনোই খেলাধুলার মধ্যে রাজনীতিকে আনতে চাইনি এবং বিশ্বাসও করি না। সুতরাং, যে যোগ্য সে অবশ্যই আসবে।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। নৌকা প্রতীকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি হওয়া সাকিব সেই সময় থেকে আর দেশে ফিরতে পারেননি। পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে বিদেশ সফরে খেললেও দেশের মাটিতে মাঠে নামা হয়নি তাঁর।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন সাকিব। দুবাই হয়ে দেশে ফেরার পথে বিমানবন্দর ও বিসিবির সামনে তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়। পরিস্থিতির চাপে শেষপর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।
এরপর সাকিবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার খবর সামনে আসে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, নির্বাচন ও দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে সাংসদ হওয়ায় তাঁর ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ তো বলেই দিয়েছেন—সাকিবের জাতীয় দলের হয়ে খেলা বোধ হয় শেষই হয়ে গেছে!
তবে এই ধোঁয়াশার মধ্যেই বিসিবির পক্ষ থেকে সাকিবকে ফেরানোর কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, তিনি সাকিবের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পরিকল্পনা করছেন। যদিও তার কোনো বাস্তব অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি।
এক নজরে: সাকিব আল হাসানের বর্তমান অবস্থা
- ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দেশে ফেরেননি
- রাজনৈতিকভাবে এমপি হওয়ায় বিতর্কে
- দেশে ফিরতে গিয়ে আন্দোলনের মুখে ফেরত
- একাধিক মামলায় অভিযুক্ত
- বিসিবি এখনও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেনি
- ফর্ম ও ফিটনেস অনিশ্চিত
বিএনপি যদি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তাহলে সাকিব আল হাসান জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন কি না—তা নির্ভর করবে তাঁর ফর্ম, মানসিক প্রস্তুতি এবং বিসিবির সিদ্ধান্তের ওপর। মির্জা ফখরুলের ভাষ্যে অন্তত কোনো রাজনৈতিক বাধা থাকবে না বলেই ইঙ্গিত মিলছে। তবে বাস্তবতা হলো—সাকিবের ফেরা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।
