বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনা অব্যাহত, রিজার্ভ বাড়লেও দাম স্থিতিশীল

জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত যেসব ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ডলার ছিল, তারা নিলামে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তা বিক্রি করেছে।

by ঢাকাবার্তা
বাংলাদেশ ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার ।।

অর্থ পাচার রোধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের ফলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়—দুটিই বেড়েছে। এর ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। বরং বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে ডলার কিনে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। আজ সোমবার ২৬টি ব্যাংক থেকে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রতি ডলারের দর ছিল ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ১৭৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার কিনেছে।

এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে, অন্যদিকে ডলারের দামও ১২০ টাকার ওপরে থাকছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন দেশের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর মুদ্রার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি দেশের বাজারে ডলারের সরবরাহ, চাহিদা ও মূল্যও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকালে রেফারেন্স রেট প্রকাশ করে ব্যাংক, যা বাজারের জন্য একটি নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। যদি বাজারে ডলারের দাম রেফারেন্স রেটের নিচে নেমে আসে, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনে।

জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত যেসব ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ডলার ছিল, তারা নিলামে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তা বিক্রি করেছে। ফলে ডলারের দাম এখন পুরোপুরি বাজার-নির্ভর হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। আইএমএফের ঋণের শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের রিজার্ভের যে পরিমাণ থাকার কথা, বর্তমানে তা ছাড়িয়ে গেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ২০২২ সাল থেকে দেশে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে। সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ঘাটতির কারণে প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। এতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। গত তিন অর্থবছরে ২৫ বিলিয়নের বেশি ডলার বিক্রি করা হয়েছে, যা মূলত জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি বিল মেটাতে ব্যবহার হয়েছে।

গত বছরের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর রিজার্ভ কম থাকায় সরকারি আমদানির জন্য ডলার সহায়তা বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ বছরের মার্চ থেকে রিজার্ভ বাড়তে শুরু করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করে।

ডলার সংকট কাটাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসীদের পাঠানো আয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় পাঁচ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ, আর আমদানিতে খরচ হয়েছে ৬৮ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি।

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net