স্টাফ রিপোর্টার ।।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক ওরফে এবি সিদ্দিক এখন নসরুল হামিদ বিপুর সবচেয়ে বড় নির্ভরতা। বিপুর মালিকানাধীন হামিদ অ্যাপারেলসের বেতনভুক্ত পরিচালক হিসেবে তিনি শুধু প্রতিষ্ঠান দেখভালই করছেন না বরং বিপুর আত্মগোপনের পর তার সম্পত্তি পাহারা ও বিক্রয় কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিপু পরিবারের সদস্যরা অদৃশ্য হলেও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রয়েছে এবং বিক্রিত সম্পত্তির অর্থ বিদেশে পাচারে সহায়তা করছেন এই ‘বিশ্বস্ত’ ব্যক্তি।
২০১৪ সালে হাসিনার শাসনামলে একবার ‘নিখোঁজ’ হয়ে আলোচনায় আসা এই ব্যক্তি বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নারী উপদেষ্টার স্বামী। শপথ গ্রহণের পর থেকেই তিনি নিজ এলাকা কুমিল্লার হোমনায় ‘তরুণ সমাজসেবক’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। নদীভাঙন রোধ প্রকল্প পরিদর্শন, রাস্তা নির্মাণ, কবরস্থান আধুনিকীকরণসহ নানা উন্নয়ন পরিকল্পনায় তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রটোকলসহ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় ‘প্রধান অতিথি’ হিসেবে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

স্বামী আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ফাইল ফটো
নসরুল হামিদ বিপু, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এবং সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, বর্তমানে ভারত পালিয়ে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তার সন্তানরা আগে থেকেই পশ্চিমা দেশে অবস্থান করছেন। বিপু পরিবারের সব সদস্য আত্মগোপনে চলে গেলেও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কায় তিনি সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করছেন।
শেখ হাসিনার পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে বিপু পেয়েছেন লুটপাটের ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’। তার পিতা হামিদুর রহমান ছিলেন শেখ মুজিবের ঘনিষ্ঠ সহচর, যিনি জমির দালালি থেকে গড়ে তোলেন ‘হামিদ গ্রুপ’। বিপু ছাত্রজীবনেই পুরান ঢাকা ও কেরানীগঞ্জে দখল-বাণিজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। খাস জমি, হিন্দু বাড়ি, জলাশয়—সবই তার দখলের আওতায় আসে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
দুদক সম্প্রতি বিপুর প্রতিষ্ঠান ‘প্রিয়প্রাঙ্গণ’ থেকে মাত্র এক কোটি টাকা জব্দ করেছে। এছাড়া তার নামে থাকা ফ্ল্যাট, গাড়ি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে ৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। যদিও ক্যাবের গবেষণা মতে, হাসিনার শাসনামলে জ্বালানি খাতে বছরে গড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি বিপুর সংশ্লিষ্টতায়।
‘পাওয়ারকো ইন্টারন্যাশনাল’ নামে বিপুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এলএনজি আমদানির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করেছে। ভিটল এশিয়া, গানভর, টোটালসহ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বিপু শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, যার অধিকাংশই বিদেশে পাচার হয়েছে।
২০১৮ সালে ময়মনসিংহে বনবিভাগের ১৫৩ একর জমি দখল করে ‘হামিদ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করেন বিপু। পরিবেশবান্ধব শিল্পনগরীর নামে বনভূমি দখল হলেও পরিবেশবাদী বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণাল
