নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর উত্তরা থেকে রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল আটক করেছে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নদভীকে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তার এই আটক দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নদভী চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক এবং কওমী মাদ্রাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সংগঠনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার শিক্ষাজীবন মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও নদওয়াতুল ওলামার মতো প্রতিষ্ঠানে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সরব উপস্থিতি থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি আলোচনায় ছিলেন তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণে।
গত কয়েক বছর ধরে ড. নদভীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে সরকারি তহবিল ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং ব্যক্তিগত কাজে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু হয়। বিভিন্ন মামলায় তার নাম আসার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ড. নদভীকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছিল। গোয়েন্দা সূত্রে তার অবস্থান শনাক্তের পর রবিবার উত্তরা থেকে তাকে আটক করা হয়। তাকে বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ওয়াজ করছেন আবু রেজা নদভী। ফাইল ফটো
ড. নদভীর আটকের খবরে চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।
ডিএমপির উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, “তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নদভীর আটকের ঘটনা চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং দেশের ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এবং এর বিচারিক প্রক্রিয়া কিভাবে অগ্রসর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
