ডেস্ক রিপোর্ট ।।
প্রায় ছয় দশক পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শালের মর্যাদা দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই পদোন্নতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একইসঙ্গে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর চাকরির মেয়াদও বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর কৌশলগত সাফল্য ও নেতৃত্বগুণের জন্যই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। ‘অপারেশন বুনইয়ান-উন-মারসুস’-এ পাকিস্তানের জয়কে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সাফল্য’ বলে অভিহিত করেন।
৬ ও ৭ মে রাতে ভারতের “অকারণ ও উসকানিমূলক” হামলার জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। পাল্টা হামলায় পাকিস্তান ভারতীয় রাফালে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এবং একাধিক সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। এই সংঘর্ষকে গত তিন দশকে পাক-ভারতের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল পদটি একটি অনারারী পাঁচ তারা পদবি, যা সাধারণত যুদ্ধে নেতৃত্ব ও কৌশলগত অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়। এর আগে পাকিস্তানে কেবলমাত্র ১৯৬৫ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান নিজেকে ফিল্ড মার্শাল ঘোষণা করেছিলেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র (আইএসপিআর)-এর বিবৃতিতে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এটি আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সারা দেশের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর একটি সম্মান।”
তিনি আরও বলেন, “এই সম্মান রক্ষা করতে কোটি কোটি ‘আসিম’ জীবন দিতে প্রস্তুত।” তিনি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং মন্ত্রিসভাকে কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধানদের পাশাপাশি সিনিয়র মন্ত্রীরাও আসিম মুনিরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এই পদোন্নতির পেছনে রয়েছে এপ্রিল-মে মাসে ঘটে যাওয়া এক অভূতপূর্ব সামরিক সংঘর্ষ। ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পাহেলগামে এক হামলায় ২৬ জন নিহত হয়। ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে একতরফাভাবে। পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করে।
২৩ এপ্রিল ভারত পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি বাতিল করে, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে, ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশন বন্ধ করে দেয়।
৭ মে ভোরে ভারত পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও আজাদ কাশ্মীরে ছয়টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যাতে একটি মসজিদ ধ্বংস হয় ও বহু বেসামরিক নিহত হয়। পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালিয়ে রাফালে যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে।
১০ মে নতুন করে ভারত আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে, পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান উম মারসুস’ নামে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই অপারেশনে ভারতের একাধিক সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শেষপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে এক সন্ধিপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এ ঘোষণা দেন, যা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিবও নিশ্চিত করেন।
