ডেস্ক রিপোর্ট ।।
বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করেছে। শনিবার লাহোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার ইকবাল হোসেন খান জানান, এখন থেকে পাকিস্তানি মিশনের প্রধানদের ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে ঢাকার অনুমতির প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এবং এই লক্ষ্যে লাহোর চেম্বারের সহযোগিতা প্রয়োজন। খবর ডনের।
হাই কমিশনার ইকবাল হোসেন খান বলেন, বিগত এক দশকে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক সন্তোষজনক ছিল না। তবে বাংলাদেশ সরকার সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিশাল ভোক্তা বাজার পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের বিশাল সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।
তিনি বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সার্কের (SAARC) কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
হাই কমিশনার আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য ও সহযোগিতার পথে থাকা বাধা দূর করা দুই দেশেরই দায়িত্ব। এই লক্ষ্যে লাহোর চেম্বার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংকটের সময় বাণিজ্য সচল রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
লাহোর চেম্বারের সভাপতি মিয়া আবুজার শাদ জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দুই পক্ষের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭১৮ মিলিয়ন ডলার।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে পাকিস্তানের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৬১ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৭ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বাংলাদেশে রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪ মিলিয়ন ডলারে, আর আমদানি ছিল ৩১ মিলিয়ন ডলার।”
তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা উচিত। তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, চাল, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ এবং খেলাধুলার সামগ্রী এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
