বিশেষ প্রতিনিধি ।।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, দলের শীর্ষ নেতারা বারবার বলেছেন, তিনি ‘শিগগিরই’ ফিরছেন। এই ‘শিগগিরই’ ঠিক কত শিগগির—তা নিয়ে দলের ভিতরে নানা আলোচনা, হিসাব ও প্রস্তুতি চললেও, তা এখনো ধোঁয়াশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
দলের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ তাঁর দেশে ফেরার একটি সম্ভাবনা আছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা এখনো চূড়ান্ত নয়। বরং দলের নীতিনির্ধারকরা রাজনৈতিক পরিবেশ, নির্বাচনের সময়সূচি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিচ্ছেন।
গণমাধ্যমে জানা গেছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগমন উপলক্ষে তাঁর নিরাপত্তা, বাসস্থান, রাজনৈতিক কার্যালয়সহ নানা বিষয়ে প্রস্তুতির কথা বলা হলেও তা দৃশ্যমান নয়। বর্ষাকালও বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আষাঢ়-শ্রাবণের বৈরী আবহাওয়া ঢাকায় গণসমাবেশে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে নেতারা মনে করছেন।

লন্ডন বৈঠকে মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমান
বিএনপি চলতি জুলাইতে ৩৬ দিনের কর্মসূচি নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গণ–অভ্যুত্থান দিবসে ঢাকায় বড় সমাবেশের পরিকল্পনা। ওই সমাবেশে তারেক রহমান থাকতে পারেন, এমন গুঞ্জনও রয়েছে। তবে উচ্চপর্যায়ের নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
লন্ডনে তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের পর যে যৌথ ঘোষণা আসে, তাতে বলা হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে পারে। কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তারেক রহমানের দেশে উপস্থিতি সরকারের ওপর চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি দল জাতীয় পর্যায়ে নিতেছে বলেও জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ১০ জুন বলেন, “তারেক সাহেব নিশ্চয়ই দেশে ফিরবেন।”

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ১১ ডিসেম্বর তোলা ছবি।
২০০৭ সালের ৭ মার্চ জরুরি অবস্থার সময় গ্রেপ্তার হয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। এরপর প্রায় ১৭ বছর তিনি লন্ডনেই আছেন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর অধিকাংশ মামলায় তিনি অব্যাহতি পান। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর দেশে ফেরার পথে কোনো বাধা নেই বলে জানানো হয়েছে।
গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি, যা ১৯৮১ সালে খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, এখন সংস্কার করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশে ফেরার পর সেখানেই থাকবেন তারেক রহমান।

গুলশানের এ বাসভবনে উঠবেন তারেক রহমান। গ্রাফিক, গালা
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, তাঁর ফেরা হয়তো হবে নির্বাচনী শোডাউনের অংশ হিসেবে—রাজসিকভাবে, লালগালিচা পেতে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, এটি হতে পারে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের একটি ধাপ, বিশেষ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্তে। যে সময় তারেক রহমান দেশে ফিরলে দলের উজ্জীবন ঘটবে, সেটিই বেছে নিতে চাচ্ছে বিএনপি।
‘তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’—বিএনপির নেতা-কর্মীদের এই স্লোগান এখন বাস্তব রূপ পাবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
