শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫

ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও তরুণতম মেয়র নির্বাচিত

ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মামদানি ভোট দেন অ্যাস্টোরিয়া এলাকার একটি কেন্দ্রে। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেছিলেন

by ঢাকাবার্তা
জোহরান মামদানি ও নির্বাচনের ফল

ডেস্ক রিপোর্ট ।।

নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া-কে পরাজিত করে শহরের ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এ জয়ের মধ্য দিয়ে মামদানি শুধু নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়রই নন, বরং কয়েক প্রজন্মের মধ্যে নির্বাচিত সবচেয়ে তরুণ মেয়রও বটে।

৩৪ বছর বয়সী মামদানি তরুণ ভোটারদের উচ্ছ্বাস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সক্রিয় ব্যবহারের মাধ্যমে দলে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে তার প্রার্থিতা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতর কিছু বিতর্কও ছিল।

  • ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র
  • বয়স মাত্র ৩৪ বছর, ইতিহাসের তরুণতম মেয়র
  • পরাজিত করেছেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো ও রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়াকে
  • ভোটার উপস্থিতি গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ — প্রায় ২০ লাখ ভোটার
  • নির্বাচনে ৭ লাখের বেশি আগাম ভোট পড়ে, যা স্থানীয় নির্বাচনে রেকর্ড
  • নির্বাচনী অঙ্গীকারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি
  • সাবওয়ে ভিডিও বার্তায় প্রতীকী ঘোষণা: “পরবর্তী এবং শেষ স্টেশন — সিটি হল।”

নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়াই করছিলেন, তবে গত সেপ্টেম্বরে তিনি নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান।

নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টা) আনুমানিক ১৭ লাখের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি, ১৯৯৩ সালের নির্বাচনের পর সবচেয়ে বেশি।

মা মীরা নায়ারের সঙ্গে

মা মীরা নায়ারের সঙ্গে

এবারের নির্বাচনে ৭ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন— যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে নিউইয়র্কে সর্বোচ্চ।

নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় এবং শেষ হয় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৮টা)। ভোটের পরপরই শুরু হয় গণনা।

ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মামদানি ভোট দেন অ্যাস্টোরিয়া এলাকার একটি কেন্দ্রে। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেছিলেন এবং তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী ভোটারের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পান।

মামদানি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করেছেন, যিনি চার বছর আগে যৌন হয়রানি কেলেঙ্কারির কারণে পদত্যাগের পর রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করছিলেন।

অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে, তিনি জয়ী হলে শহরের জন্য বরাদ্দ অর্থ আটকে দেবেন। নির্বাচনের আগের রাতে ট্রাম্প কুয়োমোকেই সমর্থন জানান।

স্ত্রীর সঙ্গে জোহরান মামদানি

স্ত্রীর সঙ্গে জোহরান মামদানি

ভোট গণনা শেষে বোর্ড অব ইলেকশন জানায়, ১৯৮৯ সালের পর এবারই প্রথম ভোটার উপস্থিতি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে।

যদিও মামদানি এখনও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বক্তব্য দেননি, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আংশিকভাবে জয়ের স্বীকৃতি দিয়েছেন। এক্স (Twitter)-এ শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়— সাবওয়ে ট্রেনের দরজা খুলছে, আর ঘোষক বলছেন, “পরবর্তী এবং শেষ স্টেশন হলো— সিটি হল।”

এই ভিডিওটিই যেন নিউইয়র্কের নতুন রাজনৈতিক যাত্রার প্রতীক— যেখানে ইতিহাসের দরজা খুলে দিচ্ছেন জোহরান মামদানি।

You may also like

প্রকাশক : মানজুর এলাহী

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

ব‌ইচিত্র পাবলিশার্স
প্যারিদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০
যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@dhakabarta.net