স্পোর্টস ডেস্ক ।।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (IPL 2025 ফাইনাল):
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ১৯০/৯ (২০ ওভার)
– বিরাট কোহলি ৪৩ (৩৫), জিতেশ শর্মা ২৪ (১০)
– আর্শদীপ সিং ৩/৪০, কাইল জেমিসন ৩/৪৮
পাঞ্জাব কিংস: ১৮৪/৭ (২০ ওভার)
– শশাঙ্ক সিং ৬১* (৩০), জশ ইংলিস ৩৯ (২৩)
– ক্রুনাল পান্ডিয়া ২/১৭, ভুবনেশ্বর কুমার ২/৩৮
ফলাফল: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ৬ রানে জয়ী
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ: ক্রুনাল পান্ডিয়া
“এই সালা কাপ নামদে”—১৮ বছর ধরে এই স্লোগানে মগ্ন ছিল বেঙ্গালুরুর সমর্থকেরা। ১৮ বছর ধরে বিরাট কোহলির চোখে ছিল একটাই স্বপ্ন—একবার আইপিএল ট্রফিটা হাতে তোলা। অবশেষে ২০২৫ সালে এসে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। রাজকীয় এক ফাইনালে প্রীতির পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হলো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)।
শেষ বলটা করেছিলেন জশ হ্যাজলউড। শশাঙ্ক সিংয়ের ব্যাট থেকে এসেছিল একের পর এক বাউন্ডারি। কিন্তু ম্যাচ তখন অনেকটাই ফসকে গেছে পাঞ্জাবের হাত থেকে। ম্যাচ শেষে কোহলির চোখ ছলছল করছিল, বোঝাই যাচ্ছিল কতটা আবেগ কাজ করছে তাঁর ভেতরে। এবি ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে জড়িয়ে ধরা সেই মুহূর্তটা যেন আরসিবি ইতিহাসের প্রতীক হয়ে রইল।
চতুর্থ ফাইনাল খেলে অবশেষে শিরোপা জিতল কোহলির বেঙ্গালুরু। যদিও এই জয়ে রানটা ছিল খুব বেশি নয়—৯ উইকেটে ১৯০। আইপিএলের এবারের আসরে আহমেদাবাদে প্রথম ইনিংসে এটিই ছিল সবচেয়ে কম স্কোর। কিন্তু বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাঞ্জাবকে থামিয়ে দেয় ১৮৪ রানে।

ভিরাট কোহলি, পাশে আইপিএলের ট্রফি, আবেগে ভেসে যান।
পাঞ্জাবের ইনিংসে কচ্ছপ গতির ব্যাটিং করেছে টপ অর্ডার। প্রভসিমরান সিং (২২ বলে ২৬), প্রিয়াংশ আর্য (১৯ বলে ২৪) আর নেহাল ওয়াধেরা (১৮ বলে ১৫)—এই তিনজন যেন চাপে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা আসে ইংলিসের আউট হওয়ার পর। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ইংলিস ২৩ বলে ৩৯ করে ক্রুনাল পান্ডিয়ার বলে আউট হন। তখনও পাঞ্জাবের দরকার ছিল ৪৭ বলে ৯৩ রান—কিন্তু রানের চাপ আর ক্রুনালের বুদ্ধিদীপ্ত স্পিনে সেখানেই যেন ভেঙে পড়ে পাঞ্জাবের ইনিংস।
ক্রুনাল পান্ডিয়া, ভুবনেশ্বর কুমার ও যশ দয়াল—তিনজনই আগে আইপিএল শিরোপা জিতেছেন অন্য দলের হয়ে। এবার আরসিবির জার্সিতে নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গড়েছেন পার্থক্য। ক্রুনাল পান্ডিয়ার ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রানে ২ উইকেট ম্যাচের গতি বদলে দেয়।
অন্যদিকে, কোহলি ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করলেও স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ১২৩। তিনি বারবার বাউন্সার ও স্লোয়ারে থমকে গিয়েছিলেন। তবে রজত পতিদার, লিয়াম লিভিংস্টোন, মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও জিতেশ শর্মা সবাই দলের জন্য ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। বিশেষ করে জিতেশের ১০ বলে ২৪ রানের ইনিংসটা আরসিবির স্কোর ২০০ পেরোনোর সম্ভাবনা জাগিয়েছিল।
শেষদিকে অর্শদীপ সিং ও কাইল জেমিসনের বোলিংয়ে কিছুটা থেমে যায় আরসিবির গতি—তবে ততক্ষণে ব্যাটারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্কোরবোর্ডে যে রানটা উঠেছিল, সেটাই হয়ে যায় ম্যাচের নিয়ামক।
শেষদিকে পাঞ্জাবের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন শশাঙ্ক সিং। ৩০ বলে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংসে শেষ ওভারে জশ হ্যাজলউডকে ৬, ৪, ৬, ৬ মারেন তিনি। কিন্তু তখন দরকার ছিল ২৯ রান, যা একপ্রকার অসম্ভবই ছিল। সময়মতো আগুন ঝরাতে না পারা, আর শুরুর ধীরগতির ব্যাটিং—এই দুটি কারণেই আবারও শিরোপা থেকে বঞ্চিত পাঞ্জাব।
ভালোবাসা, হতাশা, বারবার ফিরে আসার গল্পের নাম বিরাট কোহলি। তিনি হয়তো সবচেয়ে ঝলমলে ফাইনাল খেলেননি, কিন্তু এই আইপিএল শিরোপাটা তাঁর ক্যারিয়ারে এক অনন্য সংযোজন হয়ে থাকল। ১৮ নম্বর জার্সি গায়ে দিয়ে ১৮ বছরে প্রথম আইপিএল জয়ের স্বাদ পাওয়া—এটাই তো ক্রিকেটের নাটকীয় সৌন্দর্য। এবার আর কেউ বলতে পারবে না—“এই সালা কাপ নামেনি।” এই বছর, এই কাপ, অবশেষে কোহলির!