কলকাতা প্রতিনিধি ।।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে মোদি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামক সামরিক অভিযানকে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করছেন। এই অভিযানটি পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সন্ত্রাসী ঘাঁটির বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ, যা ৭ মে, ২০২৫-এ শুরু হয়েছিল, এবং এটি ২২ এপ্রিল পাহাড়গামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
মমতা বলেন, “ওই অভিযানের নাম ‘অপারেশন সিঁদুর’ ওঁরা (কেন্দ্র) দিয়েছেন। এটা একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাম। আমি এই বিষয়ে আগে কিছু বলতে চাইনি, কারণ আমাদের বহুদলীয় প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দেশে গিয়ে ভারতের অবস্থান বোঝাচ্ছেন। কিন্তু আজ প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে শুধু রাজনৈতিক প্রচারের জন্য এসেছেন।”
মমতা আরও বলেন, “প্রথমে তিনি নিজেকে চা-ওয়ালা বলেছিলেন, তারপর পাহারাদার। এখন এসেছেন সিঁদুর বেচতে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মোদির বিরুদ্ধে সংস্কৃতি ও আবেগের প্রতীক ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “সিঁদুর আমাদের বাঙালি নারীদের কাছে পবিত্র। এটা সৌভাগ্যের প্রতীক। মহিলারা তাঁদের স্বামীর জন্য সিঁদুর পরেন। প্রধানমন্ত্রী এমনভাবে কথা বলছেন যেন তিনি সব মহিলার স্বামী। তিনি নিজের স্ত্রীকে সিঁদুর দিচ্ছেন না কেন? আমি এই বিষয়ে কথা বলতে চাইনি, কিন্তু আপনারা আমাকে বলতে বাধ্য করেছেন।”
মমতা অভিযোগ করেছেন যে মোদি বাংলায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সরকারের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক অশান্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন, যা তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদে যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি হয়েছে, তা বিজেপি-র পরিকল্পিত। আমাদের কাছে এর প্রমাণ আছে। সঠিক সময়ে আমরা তা প্রকাশ করব।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে দুর্নীতি অনেক বেশি। তারা সেখানে কোনো পদক্ষেপ নেয় না, কিন্তু বাংলার দিকে আঙুল তোলে।”
মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, “মণিপুর দুই বছর ধরে জ্বলছে। সেখানে কী করেছেন? বাংলায় আসেন শুধু নির্বাচনের আগে, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে। কেন্দ্র বাংলার ১,৭৫,০০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখেছে। আগে সেই টাকা দিন, তারপর কথা বলুন।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপি নেতারা ‘অপারেশন বেঙ্গল’ বলে বাংলার মানুষের অপমান করছেন। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আগামীকাল নির্বাচন ডাকুন, আমরা প্রস্তুত।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেন যে তিনি জাতীয় সুরক্ষার বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে একমত, কিন্তু এই ধরনের সংবেদনশীল অভিযানকে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করব। এই বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। কিন্তু সিঁদুরের মতো পবিত্র জিনিস নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়।”