রবিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫

কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, উত্তপ্ত উপসাগরীয় অঞ্চল

কাতারে ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। হামলার পর দোহায় মার্কিন দূতাবাস কাতারে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে।

by ঢাকাবার্তা
কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতার, ২৩ জুন ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট ।।

ইরানের পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে কাতার ও ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (২৩ জুন) ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও আল–জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়। হামলার পর কাতার, বাহরাইন, কুয়েতসহ গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে জারি হয় সতর্কতা।

ইরান জানায়, তারা কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দোহা শহরে একাধিক বিকট বিস্ফোরণ ও ‘আকাশে আগুনের ঝলক’ দেখা গেছে বলে জানায় আল–জাজিরা। কাতারের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে তারা এসব হামলা প্রতিহত করেছে।

হামলার পর কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের এই আক্রমণ কাতারের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমার চরম লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তারা সরাসরি জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করার কথাও জানায়। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলা কাতার বা তার জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই দেওয়া হয়েছে।

কাতারে ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। হামলার পর দোহায় মার্কিন দূতাবাস কাতারে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে। একই পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের দূতাবাসও।

এদিকে বাহরাইনে বেজে ওঠে সাইরেন, জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে হামলার প্রকৃত কারণ সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাহরাইন তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় কুয়েতও। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আকাশসীমা বন্ধ থাকবে।

সিরিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কাসরাক ঘাঁটিকেও সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র। তারা বলছে, ইরান বা ইরানপন্থী গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং কুয়েতের সরকার হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইরানের এই আগ্রাসন মিত্র কাতারের বিরুদ্ধে সরাসরি লঙ্ঘন। কোনো পরিস্থিতিতেই এ ধরনের হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।”

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজ এবং বাহরাইনের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেশটির সমস্ত প্রস্থান ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ইউএই জানিয়েছে, তারা পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক পরিসরে বিস্তার লাভ করেছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো ক্রমশ এই সংঘাতের ছায়ায় ঢেকে পড়ছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে অঞ্চলটির দেশগুলো এখন নজিরবিহীন সতর্কতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই সংঘাত কতদূর গড়াবে?

You may also like

প্রকাশক : মানজুর এলাহী

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

ব‌ইচিত্র পাবলিশার্স
প্যারিদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০
যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@dhakabarta.net