ডেস্ক রিপোর্ট ।।
ভারতের বিরুদ্ধে নতুন মাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান। শনিবার ভোরে শুরু হওয়া এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন বুনইয়ান–উন–মারসুস’, যার অর্থ ‘সুদৃঢ় প্রাচীর’।
পাকিস্তান বলছে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ এর পাল্টা হিসেবেই তারা এ অভিযান শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাতে ভারত পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি ইসলামাবাদের।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের অমৃতসরের বিয়াস এলাকায় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কেন্দ্র, পাঠানকোট বিমানঘাঁটি এবং কাশ্মীরের উধমপুর বিমানঘাঁটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এর আগে ভারত ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে, এবং পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের আরও দুটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে জানায় পাকিস্তান। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর দাবি, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। যেগুলো প্রবেশ করেছিল, তা কোনো উল্লেখযোগ্য সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে পারেনি।
শ্রীনগর ও জম্মুতে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্সের এক সংবাদদাতা। স্থানীয়ভাবে সাইরেন বাজানো হয়।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে অভিযানের নাম ও তাৎপর্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এরই মধ্যে ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির (NCA) বৈঠক আহ্বান করেছেন। এটি বেসামরিক ও সামরিক কর্তৃপক্ষ নিয়ে গঠিত একটি শীর্ষ পর্যায়ের কমিটি, যারা পরমাণু অস্ত্র–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিকল্পনামন্ত্রী এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, বেসামরিক স্থাপনা যেন হামলার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা কেবল সেই স্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু করেছে, যেগুলো থেকে আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা হয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও রয়টার্স তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পায়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা শিগগিরই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিয়ে ব্রিফ করবে।
উল্লেখ্য, গত মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ভারত পাকিস্তানে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশেই উত্তেজনা বেড়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত হয়েছেন বলে দুদেশীয় সূত্র জানালেও স্বাধীনভাবে এ সংখ্যা যাচাই করা যায়নি।
