ডেস্ক রিপোর্ট ।।
বাল্যবিবাহ বন্ধে বলিভিয়ার পার্লামেন্টে একটি কঠোর আইন পাস হয়েছে, যার আওতায় কোনো কর্মকর্তা যদি নাবালিকাদের বিয়ে রেজিস্টার করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটি লাতিন আমেরিকার ১৩টি দেশে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করার ধারার সঙ্গে নিজেদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করলো।
২০১৪ সালের একটি আইনে বলা হয়েছিল, ১৬-১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা পিতা-মাতার অনুমতি পেলে বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু নতুন আইনে সেই ব্যতিক্রম তুলে দিয়ে বলা হয়েছে, এটি আর আইন নয়—এটি একটি প্রতিশ্রুতি। পার্লামেন্টে পাস হওয়া সংশোধনীতে বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদেরকে আর জোর করে বিয়ে দেয়া হবে না, স্কুল ছাড়াতে বাধ্য করা হবে না, কিংবা তাদের ওপর অপ্রাপ্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হবে না।
বলিভিয়ার চেম্বার অব ডেপুটিজ এই সংশোধনীটি বুধবার পাস করে, যা এর আগে এপ্রিল মাসে সিনেট অনুমোদন দিয়েছিল। এখন এটি প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
ওম্বুডসম্যানের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বলিভিয়ায় ৪,৮০০ এর বেশি নাবালক বিয়ের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। এছাড়া অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানিয়েছে, ২০১৪ সালে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩২,৩০০ মেয়ের বিয়ে হয়েছিল, যা দেশটিতে বাল্যবিবাহের ভয়াবহতা তুলে ধরে।
বর্তমানে কলম্বিয়া, পেরু, ইকুয়েডর ও এল সালভেদরসহ লাতিন আমেরিকার ১৩টি দেশে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। বলিভিয়ার নতুন আইন সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বলিভিয়ার সিনেটর ভার্জিনিয়া ভেলাসকো সম্প্রতি এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “এটি শুধু একটি আইন নয়, এটি একটি প্রতিশ্রুতি—আমাদের কিশোরী মেয়েরা আর জোর করে বিয়ে হবে না, স্কুল ছাড়তে বাধ্য করা হবে না, কিংবা এমন দায়িত্ব নিতে হবে না যা তাদের জন্য নয়”।
এই বক্তব্যটি তিনি দিয়েছেন বলিভিয়ার পার্লামেন্টে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করার বিল পাস হওয়ার পর, যা এখন প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা যদি নাবালকদের বিয়ে রেজিস্টার করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
