শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫

আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন, আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে

by ঢাকাবার্তা
আদালত প্রাঙ্গণে আবুল বারকাত

 

স্টাফ রিপোর্টার ।।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বারকাতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক জুয়ের রানা তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুদকের পক্ষ থেকে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত জানিয়েছেন, রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হবে সংশ্লিষ্ট কোর্টে—ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে।

আবুল বারকাতকে দুপুর ২টা ২২ মিনিটে আদালতের হাজতখানায় আনা হয় এবং ২টা ৪৯ মিনিটে তাঁকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। বিচারক ৩টা ৪১ মিনিটে আসেন এবং দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্টপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করলেও আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আউয়াল জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি এননটেক্স গ্রুপের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ২৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও আবুল বারকাত পরস্পর যোগসাজশে এননটেক্স গ্রুপের আওতাধীন ২২টি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে এই অর্থ জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিল, মিথ্যা রেকর্ড এবং কাগজপত্র তৈরি করে জনতা ব্যাংক থেকে মর্টগেজ নেওয়া জমির ভিত্তিতে এই বিপুল অর্থ উত্তোলন করেন। বাস্তবে জমিগুলোতে কোনো ভবন বা স্থাপনা না থাকলেও তা মূল্যায়ন করে বড় অঙ্কের ঋণ মঞ্জুর করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, আসামি জামিন পেলে আত্মগোপন করতে পারেন এবং মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়।

এই মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

You may also like

প্রকাশক : মানজুর এলাহী

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

ব‌ইচিত্র পাবলিশার্স
প্যারিদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০
যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@dhakabarta.net