বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

গাজার যুদ্ধকালীন নারীদের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী ‘ইসদাল’

by ঢাকাবার্তা
গাজায় আহত এক নারী

ডেস্ক রিপোর্ট ।।

গাজার নারীদের জীবনরক্ষার মুহূর্তে, হাসপাতালের করিডোরে, অথবা সন্তানকে শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরার সময়, এক কাপড় ঘিরে রেখেছে তাদের — নাম ‘ইসদাল’। নামটি মুসলিম নারীদের জন্য পরিচিত, এটি সালাতের সময় পরিধানযোগ্য বিশেষ পোশাক, অনেক সময় এক টুকরো কাপড়, আবার কখনো স্কার্ট ও ওড়নার সংমিশ্রণ।

এই ‘ইসদাল’ এখন গাজার যুদ্ধাহত নারীদের প্রতীক হয়ে উঠেছে — ভয়, লজ্জা, মর্যাদা এবং প্রত্যয়ের প্রতিচ্ছবি।

ইসদাল সাধারণত নামাজের সময় ব্যবহৃত হলেও, গাজার যুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপটে এটি হয়ে উঠেছে ২৪ ঘণ্টার অনিবার্য পোশাক। ঘুমে, জাগরণে, ঘরে বা রাস্তায় — নারীরা ইসদাল ছাড়া এখন আর কিছু কল্পনাও করেন না। কারণ কেউ জানে না কখন বোমা পড়বে, কখন তাদের নগ্ন অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তোলা হবে।

৪৪ বছর বয়সী সারা আসআদ বলেন, “যদি আমাদের বাড়ি বোমায় উড়ে যায়, আমরা চাই মর্যাদা ও পর্দা বজায় রেখে মরতে।” তিনি এখন পূর্ব গাজার যেইতুন থেকে বিতাড়িত হয়ে আল-ফুখারির একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন তিন কন্যা ও দুই পুত্রসহ।

৫৬ বছর বয়সী রায়েদা হাসান, খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চল থেকে বিতাড়িত, বলেন, “এই পোশাকটিকে আর ভালো লাগে না, এটা দেখলেই যুদ্ধের স্মৃতি জেগে ওঠে। যুদ্ধ শেষ হলে এই ইসদাল ফেলে নতুনটা কিনব।”

রায়েদা, সারা ও আরও অনেক নারী বলছেন, ছোট ছোট মেয়েরাও এখন ইসদাল চাইছে, যেন তারা বড়দের মতো দেখতে হয়। ৪ ও ৫ বছর বয়সী দুই মেয়ে সন্তানের মা সাহার আক্কার জানান, তার মেয়েরাও ইসদাল পরার বায়না ধরে। সাহারও গাজা সিটি থেকে দক্ষিণে পালিয়ে এসেছেন।

ইসদাল পরা এক নারী গাজার যুদ্ধ চলাকালে রাফার এক শিবিরে শিশুদের সঙ্গে মাটিতে বসে আছেন, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩।

ইসদাল পরা এক নারী গাজার যুদ্ধ চলাকালে রাফার এক শিবিরে শিশুদের সঙ্গে মাটিতে বসে আছেন, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩।

রায়েদা বলেন, “লোকে ভাবে আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকি। কিন্তু বলুন তো, বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার জন্য কেউ কিভাবে প্রস্তুত থাকে?”

তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়েরা বা পরিবারের কোনো নারী ইসদাল ছাড়া থাকলে আমি তাদের বলি, এটা পরে নাও। কারণ আমরা জানি না কখন কি হতে পারে।”

১৬ বছর বয়সী সালমা জানায়, একদিন বাজারে ঘুরতে ঘুরতে সুন্দর ইসদাল দেখে মায়ের কাছে বায়না ধরে, সেই স্মৃতিই এখন তাকে ভালো লাগে। কিন্তু সেই একই ইসদাল আজ যুদ্ধের কারণে পরতে হচ্ছে সারা দিনরাত।

একসময় ঈদের নামাজ বা সন্তানদের স্কুল বাস থেকে নামার অপেক্ষার মুহূর্তে যে ইসদাল পরা হতো, আজ তা রূপ নিয়েছে বেঁচে থাকার প্রতিক হিসেবে।

গাজার নারীদের কাছে ইসদাল এখন আর শুধু নামাজের পোশাক নয়, এটি নিরাপত্তা, লজ্জা, স্মৃতি, ভয় এবং আশা—সব কিছুর মিশেল। যুদ্ধের বিভীষিকায় এই সাধারণ পোশাকটি তাদের আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net