ডেস্ক রিপোর্ট ।।
বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়া বড় কিছু হওয়া যায় না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বিলিয়নিয়ার মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ তাদের অনেকেই গড়ে তুলেছেন ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য, কেউ বদলে দিয়েছেন প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির ধারা।
ডিজিটাল দুনিয়ার অন্যতম পথিকৃৎ ইভান উইলিয়ামস ব্লগার, টুইটার ও মিডিয়াম প্রতিষ্ঠা করে হয়েছেন ১.৯ বিলিয়ন ডলারের মালিক। টেড টার্নার বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লেও টার্নার ব্রডকাস্টিং তৈরি করে গড়েছেন ২.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ। স্কুল ছাড়ার পর ব্যবসায় নেমে পড়েন রিচার্ড ব্র্যানসন, এখন তাঁর ভার্জিন গ্রুপের মূল্য বিলিয়ন ডলারে। মিডিয়া সাম্রাজ্যের মালিক ওপ্রাহ উইনফ্রে দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে আজ ৩ বিলিয়ন ডলারের মালিক।
টেক দুনিয়ায় ঝড় তোলা ট্রাভিস কালানিক উবার প্রতিষ্ঠা করে হয়েছেন ৩.৬ বিলিয়ন ডলারের মালিক। টুইটার ও স্কয়ার প্রতিষ্ঠা করা জ্যাক ডরসির সম্পদ ৪.২ বিলিয়ন ডলার। গেমিং দুনিয়ার প্রভাবশালী নাম গ্যাব নিউয়েল হার্ভার্ড ছাড়লেও ভ্যালভ করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করে হয়েছেন ৪.৩ বিলিয়ন ডলারের মালিক। চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি স্টিভেন স্পিলবার্গ পড়াশোনা শেষ না করেই গড়েছেন ৪.৮ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য।
ফ্যাশন দুনিয়ার তারকা রালফ লরেন ও জর্জিও আরমানি আজ যথাক্রমে ৯.২ ও ১২ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ভারতের প্রযুক্তি টাইকুন আজিম প্রেমজি পড়াশোনা ছাড়ার পর উইপ্রোকে গ্লোবাল কোম্পানিতে রূপ দেন, সম্পদ ১২.১ বিলিয়ন ডলার। হোয়াটসঅ্যাপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইয়ান কুম বিক্রির পর এখনো ১৬.১ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডাস্টিন মস্কোভিটজর সম্পদ ১৭.৯ বিলিয়ন ডলার।
হংকংয়ের ব্যবসায়ী লি কা-শিংর সম্পদ ৩৬.৭ বিলিয়ন ডলার। ভারতের গৌতম আদানি পড়াশোনা ছেড়ে আজ ৮৩.৪ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়ী। মাইকেল ডেল বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেল থেকেই কম্পিউটার ব্যবসা শুরু করে হয়েছেন ১০৮.৪ বিলিয়ন ডলারের মালিক। জারা ব্র্যান্ডের মালিক আমানসিও ওর্তেগা এখন ১১৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ধনী।
সবচেয়ে আলোচিত নামের মধ্যে রয়েছেন বিল গেটস (১৩৫ বিলিয়ন ডলার), ল্যারি এলিসন (১৭৬.৬ বিলিয়ন ডলার) এবং মার্ক জাকারবার্গ (১৭৯.৭ বিলিয়ন ডলার)। হার্ভার্ড ছেড়ে তাঁরা প্রযুক্তি জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন, হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী উদ্যোক্তা।
সব মিলিয়ে প্রমাণিত হয়—ডিগ্রি থাকলেই যে সাফল্য আসবে তা নয়; দৃষ্টি, উদ্ভাবনী শক্তি আর পরিশ্রম থাকলে পৃথিবী জয় করাও সম্ভব।
