ডেস্ক রিপোর্ট ।।
বালুচিস্তানের সংকট জাতীয় পরিষদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠায় শুক্রবার অধিবেশনে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। পিটিআই সংসদীয় নেতা জারতাজ গুল সরকারের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ব্যর্থতা ও প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি জাফর এক্সপ্রেসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করে বলেন, “অভিযান সফল হলেও সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, অথচ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ছয়জন মন্ত্রী রয়েছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, “বালুচিস্তান নিয়ে আলোচনার বদলে সরকার ব্যক্তি আক্রমণে ব্যস্ত।”
তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফকে পিটিআইকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগ এনে বলেন, “যিনি রেহানা দারের কাছে পরাজিত হয়েছেন, তিনিই এখনও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার পিটিআই জাফর এক্সপ্রেস হামলার বিষয়ে আলোচনা চাইলেও বিরোধীদের সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে শুক্রবার প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত রেখে অবশেষে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

জারতাজ গুল
তিনি দাবি করেন, গত ১৬ মাসে ১০ হাজার পাকিস্তানিকে ইউএই থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, অথচ সরকারি মন্ত্রীরা দুবাইতে ফ্ল্যাট দাবি করছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির ভাষণের সমালোচনা করে বলেন, “২৬তম সংশোধনী গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপের উদাহরণ।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাষ্ট্রপতি বালুচিস্তানের জন্য কতবার দরজা খুলেছেন?” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, “সিন্ধুর পানি সংকট ভোটের জন্য ব্যবহার করা হলেও অন্য প্রদেশগুলোর প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “তারা আমাদের বলে, ৮০৪ নম্বর বন্দির কথা বলো না, অথচ তিনিই নির্বাচিত নেতা, যিনি চারটি প্রদেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন।”
জেইউআই-এফ সাংসদ উসমান বাদিন বলেন, “৭০ বছর বয়সী নেতারা বালুচিস্তানের বিষয়ে আলোচনা না করে কটূক্তিতে লিপ্ত ছিলেন।” তিনি প্রশ্ন করেন, “শিক্ষিত বালুচ যুবকরা কেন আত্মঘাতী হামলায় জড়িয়ে পড়ছে?”
পিএমএল-এন সাংসদ শেখ আফতাব সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সেনাবাহিনী প্রতিদিন আত্মত্যাগ করছে, রাজনৈতিক নেতাদের এখনই সমাধান খুঁজতে হবে।”
পিপিপি সাংসদ সেহার কামরান শিক্ষা ও নারীদের শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “এপিএস হামলার পর গৃহীত কৌশলের মতো একটি সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।”
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন সোমবার দুপুর ২টায় পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
