জীবনধারা ডেস্ক ।।
ঈদের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত হলো সালামি পাওয়া। তবে সেই সালামি কীভাবে খরচ করা যায়, তা ছোটবেলায় অনেকেই বুঝতে পারে না। অনেক শিশু মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখে, বছরের পর বছর ধরে কয়েনের ঝনঝনানি ও নোটের খসখস শব্দ শুনতে শুনতে।
তবে সময়ের সাথে সাথে এই সঞ্চয়ের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক বাবা-মা পরামর্শ দেন স্বর্ণালঙ্কার কেনার মতো বিনিয়োগমূলক সিদ্ধান্ত নিতে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনে।
ঈদের ছুটিতে নগদ টাকার গন্ধ আর সালামি গোনার আনন্দে মেতে ওঠে সবাই। কিন্তু যদি এবার ঈদের সালামি খরচ না করে সঞ্চয় করা হয়? যদি ছোটবেলা থেকেই টাকা জমানোর ও ব্যয়ের সঠিক পরিকল্পনা শেখা যায়?
বাংলাদেশে স্কুল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই অর্থ সঞ্চয় করতে পারে। মাত্র ১০০ টাকা দিয়েই এমন অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব, যেখানে সুদের হারও সাধারণ সঞ্চয় হিসাবের চেয়ে বেশি। এতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থ বাড়তে থাকে এবং অর্থনৈতিক সচেতনতা গড়ে ওঠে।
এছাড়া, ফিক্সড ডিপোজিট বা ডাবল ডিপোজিট স্কিমের মতো বিকল্পও রয়েছে, যা এককালীন জমা করে নির্দিষ্ট সময়ে মুনাফাসহ ফেরত পাওয়া যায়। তবে এসব ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু সঞ্চয়ই নয়, এসব ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আর্থিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানও নিশ্চিত হয়। শিক্ষার্থীরা কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারে, তবে অভিভাবকরা প্রয়োজনীয় তদারকি ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করতে পারেন, যাতে ব্যয় পরিকল্পিত হয়।
অল্প বয়স থেকেই অর্থ সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধৈর্য ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে বড় ধরনের কেনাকাটা, শিক্ষা ব্যয় বা ভবিষ্যতে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার মতো লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব।
ঈদ শুধুই আনন্দের নয়, এটি আর্থিক দায়িত্বশীলতা শেখারও উপযুক্ত সময়। সালামিকে শুধু হাতখরচের টাকা না ভেবে, ভবিষ্যতের নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে দেখা উচিত।