ডেস্ক রিপোর্ট ।।
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের লক্ষ্য করে চালানো ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। হামলার পর সৌদি সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিকে ভারতে অবস্থানরত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
- পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত, বহু আহত।
- নিহতদের মধ্যে দুজন বিদেশি পর্যটক, একজন ইউএই এবং একজন নেপালের।
- নিহতদের তালিকায় রয়েছেন ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা।
- হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স’ নামে একটি গোষ্ঠী।
- সৌদি সফর সংক্ষিপ্ত করে রাতে দেশে ফিরছেন মোদি।
- কাশ্মীরে পৌঁছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন অমিত শাহ।
- হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ট্রাম্প, পুতিন ও ইইউ প্রধান।
- কাশ্মীরের পর্যটন খাতের জন্য বড় ধাক্কা।
মঙ্গলবার বিকেলে পর্যটন নগরী পেহেলগামে চালানো এ হামলায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চলকে ‘ভারতের সুইজারল্যান্ড’ বলা হয়ে থাকে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
হামলার পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই আরও দৃঢ় হবে।” এরপরই তিনি সৌদি সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতোমধ্যে কাশ্মীরের শ্রীনগরে পৌঁছে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।
এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেইন। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “কাশ্মীরের ঘটনা শুনে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ভারতের পাশে আমেরিকা দৃঢ়ভাবে আছে।”
কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স নামের একটি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে তারা স্বাধীনভাবে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
কাশ্মীরে সহিংসতার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৯০ সাল থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলে আসছে। ২০১৯ সালে মোদি সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর সহিংসতা কিছুটা কমলেও পর্যটন খাতের বিকাশের মাঝেও মাঝেমধ্যে বড় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ভারতের পর্যটন শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র পেহেলগামে ২০২৪ সালে প্রায় ৩৫ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। সরকারের নানা উদ্যোগে এই অঞ্চলকে আরও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা চলছিল। তবে এই হামলা কাশ্মীরের পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
