স্টাফ রিপোর্টার ।।
শেখ হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী দীপু মনির রিমান্ড শুনানির আগে ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিলেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা; তিনবারের মন্ত্রী দীপু মনিকে এদিন আদালতে কাঁদতে দেখা গেল।
মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের হওয়া মুদি দোকানি আবু সায়েদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয় দীপু মনি ও জয়কে। তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন।
ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম সুলতান সোহাগ উদ্দিন শুনানি শেষে দীপু মনিকে ৪ দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
শুনানির সময় আদালতের এজলাসে ছিল বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের উপচে পড়া ভিড়। কিছু বহিরাগতকেও এ সময় দেখা যায়।
দীপু মনিকে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে সিএমএম আদালতের দ্বিতীয় তলায় ২৮ নম্বর এজলাসে তোলা হয়।
এরপর তার রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। কেউ কেউ খুনি খুনি বলে চিৎকার করতে থাকেন।
কাঠগড়ায় ওঠানোর পর দীপু মনির হাতে হাতকড়া পরানোর জন্য চিৎকার করে আদালতকে চাপ দিতে থাকেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
দিপু মনির রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন।
তিনি বলেন, “কোটাবিরোধী আন্দোলনে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আটক আসামীর সংযোগ আছে। হত্যায় হুকুমদানকারী ও উসকানিদাতাদের নামসহ মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।”

কড়া নিরাপত্তায় দীপু মনিকে আদালতে হাজির করা হয়।
তার বক্তব্য শেষে আসামি পক্ষে কেউ আছেন কি না জানতে চান বিচারক। আওয়ামী লীগপন্থি কোনো আইনজীবীকে এ সময় এজলাসে দেখা যায়নি।
বিচারক নেমে যাওয়ার পর কাঠগড়ায় থাকা দীপু মনিকে আক্রমণ করার জন্য এক নারী আইনজীবী তেড়ে গেলে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যে সোমবার দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, গত ১৩ আগস্ট তা দায়ের করেন আমির হামজা শাতিল নামের এক ব্যক্তি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ছয়জনের নাম রয়েছে এ মামলার আসামির তালিকায়। বাকি পাঁচজন হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
এ ছাড়া পুলিশের অজ্ঞাতনামা কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে মামলায়।
এজাহারে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে গত ১৯ জুলাই বিকালে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে মুদি দোকানি সায়েদ নিহত হন।
