বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

এবারও গ্রীষ্মে থাকছে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

টাকার প্রবাহ বাড়লে বকেয়া কমবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের।তবে জ্বালানি আমদানির জন্য ডলারের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
এবারও গ্রীষ্মে থাকছে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার।।

টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা ডলার—দুটির সংকটেই ভুগছে বিদ্যুৎ খাত। বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়িয়ে টাকার ঘাটতি মেটাতে যাচ্ছে সরকার। এতে দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল পরিশোধে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে ভারতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল ও জ্বালানি আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের জোগানের অনিশ্চয়তা কাটেনি। এতে গ্রীষ্মে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে উৎপাদন সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই। তবে ঘাটতি আছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেলের (ডিজেল, ফার্নেস) সরবরাহে। চাহিদামতো জ্বালানি না পাওয়ায় গত দুই বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে ব্যাপক লোডশেডিংয়ে ভুগতে হয়েছে ভোক্তাদের। এর মধ্যে গত বছর গ্রীষ্মের আগে টানা তিন দফা দাম বাড়িয়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি।

এবার গ্রীষ্ম মৌসুমে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। গত বছরের চেয়ে চাহিদা বেড়েছে ১১ শতাংশের মতো। একই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়েছে একই হারে। তবে গত বছরের মতোই সক্ষমতার বড় একটি অংশ বসিয়ে রাখতে হতে পারে জ্বালানির অভাবে। গড়ে ২৫ শতাংশ সক্ষমতা বসে ছিল সর্বোচ্চ চাহিদার সময়েও। এর বাইরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়মিত বন্ধ থাকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সক্ষমতা। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকুক বা বন্ধ থাকুক, চুক্তি অনুসারে সব কেন্দ্রকে ভাড়া পরিশোধ করতে হয়; যা ক্যাপাসিটি চার্জ নামে পরিচিত। গত অর্থবছরে পিডিবি ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া পরিশোধে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, গত বছর ৪১ শতাংশ সক্ষমতা অলস বসে ছিল।

চুক্তি অনুসারে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তা পাইকারি দামে ছয়টি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে, যারা খুচরা দামে গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়। গত দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১১ বার ও ভোক্তা পর্যায়ে ১৩ বার বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। এখন গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খুচরা দাম ৮ টাকা ২৫ পয়সা। আর পাইকারি দাম ৬ টাকা ৭০ পয়সা। পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ খাত থেকে ভর্তুকি তুলে দিতে হলে বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১২ টাকা ১১ পয়সা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভোক্তা পর্যায়ে গড়ে বিদ্যুতের দাম হবে প্রায় ১৫ টাকা। একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে দাম বাড়াতে চায় বিদ্যুৎ বিভাগ। মার্চ থেকে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে এক দফা দাম বাড়াতে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের নীতি-গবেষণা সংস্থা পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, সর্বোচ্চ চাহিদা মাথায় রেখেই উৎপাদন পরিকল্পনা করা হয়েছে। জ্বালানির কারণে পরিকল্পনামতো উৎপাদন করা না গেলে লোডশেডিং হতে পারে। ৫০০ থেকে ১০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং ভোক্তা মেনে নেয়। তবে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাটা পিডিবির জন্য কিছুটা স্বস্তির হবে।

পরিস্থিতি এবার আরও নাজুক

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপে আছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তাদের মাসের বিল বাড়বে। একই সঙ্গে বাজারে জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়তে পারে। এত চাপ ভোক্তার জন্য অসহনীয় হতে পারে। তাই দাম না বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমানোর দিকে যেতে পারে পিডিবি। জ্বালানি তেল থেকে কমিয়ে গ্যাস ও কয়লা থেকে উৎপাদন বাড়ানো হলে খরচ কমার সুযোগ আছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, গত বছরও গ্রীষ্ম মৌসুমের আগে বকেয়া শোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপরও বিল বকেয়া ছিল এখনকার মতো চার থেকে পাঁচ মাসের। এ ছাড়া গত বছর জ্বালানি আমদানির অন্তত ৫০ শতাংশ ডলার সরবরাহ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও লোডশেডিং করতে হয়েছে। আর এবার ডলার সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক। তাই এবারের গ্রীষ্মেও লোডশেডিংয়ে ভুগতে হতে পারে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ম তামিম প্রথম আলোকে বলেন, খরচ না কমিয়ে বাড়তি উৎপাদন খরচের দায় ভোক্তার ওপর চাপানো হচ্ছে। এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সরকারের ভর্তুকি কমানো যাবে। তবে এতে ডলার–সংকট কাটবে না, জ্বালানি আমদানি সমস্যারও সমাধান হবে না। তাই দাম বাড়িয়ে লোডশেডিং ঠেকানো যাবে না।

 

আরও পড়ুন: হাসপাতাল পরিচালনায় ১০ নির্দেশনা, না মানলে লাইসেন্স বাতিল

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net