বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে দুজনকে নির্যাতনের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত দুইটার দিকে শাহাবুদ্দীন ১০ থেকে ১২ জনের দল নিয়ে আবদুল জলিল ও তাঁর বন্ধু হেফাজ উদ্দীনকে হাতিরঝিলের হাজীপাড়ার বাসা থেকে তুলে প্রথমে বিজয় একাত্তর হল ও পরে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে আটকে রাখেন। ওই দলে ছাত্রলীগের গ্রেপ্তার তিন নেতা ছিলেন।

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে দুজনকে নির্যাতনের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার।।

পাওনা টাকা দিতে দেরি হওয়ায় দুজনকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আটকে রেখে তিন দিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের দুই নেতা ও সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে। তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের উপপ্রচার সম্পাদক মোনতাছির হোসাইন এবং একই হলের ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক উপসম্পাদক আল শাহরিয়ার মাহমুদ ওরফে তানসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপদপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাসান সাঈদি। এ ছাড়া ছাত্রলীগ নেতা মোনতাছিরের আত্মীয় মো. শাহাবুদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসার কথা বলে ছাত্রলীগ নেতা মোনতাছির হোসাইনের আত্মীয় মো. শাহাবুদ্দীনের কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন আবদুল জলিল নামের এক ব্যক্তি। তিনি টাকা ফেরত দিতে দেরি করছিলেন। তাই ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত দুইটার দিকে শাহাবুদ্দীন ১০ থেকে ১২ জনের দল নিয়ে আবদুল জলিল ও তাঁর বন্ধু হেফাজ উদ্দীনকে হাতিরঝিলের হাজীপাড়ার বাসা থেকে তুলে প্রথমে বিজয় একাত্তর হল ও পরে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে আটকে রাখেন। ওই দলে ছাত্রলীগের গ্রেপ্তার তিন নেতা ছিলেন।

আবদুল জলিল ও হেফাজ উদ্দীনের পরিবারের পক্ষ থেকে হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর গতকাল শনিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় পুলিশের অভিযানে মুহসীন হলের ৫৪৪ নম্বর কক্ষ থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাবুদ্দীন ও তিন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানার পুলিশ।

আবদুল জলিল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শাহাবুদ্দীন আমার কাছে ৩৫ লাখ টাকা পান। মাঝে কিছুদিন তাঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়নি। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি রাত দুইটায় দলবল নিয়ে আমাকে বাসা থেকে তুলে আনা হয়। আমার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে।’ নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন বলেছেন, আবদুল জলিলের শরীরে মারধরের চিহ্ন রয়েছে।হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আওলাদ হোসেন আজ রোববার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় হওয়া মামলায় শাহাবুদ্দীন ও অভিযুক্ত তিন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি জিরো টলারেন্স। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের থানায় পাঠানো হয়েছে; পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগও যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হোসেন। গ্রেপ্তার হয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

আরও পড়ুন: ঢাবি’র তিন ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা: নানা সেবা দিলো বিভিন্ন সংগঠন

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net