বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

ওয়াসা বিদেশিদেরও প্রশিক্ষণ দিতে চায়, ইনস্টিটিউটে ব্যয় ৭৩৮ কোটি টাকা

ঢাকার বাসিন্দাদের কীভাবে সেবা দেওয়া হয়, তা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সেবাদাতা সংস্থার কর্মীদের শেখাতে চায় ঢাকা ওয়াসা।

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
ওয়াসা বিদেশিদেরও প্রশিক্ষণ দিতে চায়, ইনস্টিটিউটে ব্যয় ৭৩৮ কোটি টাকা

ঢাকাবার্তা ডেস্ক।।

ঢাকার বাসিন্দাদের কীভাবে সেবা দেওয়া হয়, তা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সেবাদাতা সংস্থার কর্মীদের শেখাতে চায় ঢাকা ওয়াসা। দেশি ও বিদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে সংস্থাটি ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট করার প্রকল্প নিয়েছে।

অবশ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করার নামে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে প্রকল্পে নানা খাতে বিপুল ব্যয়ের প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরেক দিকে প্রশ্ন উঠেছে যে, ঢাকা ওয়াসা আসলে বিদেশিদের কী শেখাবে। তাদের সরবরাহ করা পানি সরাসরি পান করার উপযোগী নয়। অনেক এলাকায় বাসিন্দারা পান দুর্গন্ধযুক্ত পানি। খাল ও নর্দমা ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে ঢাকা ওয়াসাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পয়োব্যবস্থাপনায়ও ঢাকা ওয়াসা সফল হয়নি। মানুষের মল বাসাবাড়ি থেকে যায় নগরের খাল, ঝিল ও নদীতে। পয়োবর্জ্যের কারণে দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিলের পানি দুর্গন্ধে ভরা। ঢাকা ওয়াসা বরং উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে সেসব প্রকল্পের পুরো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকল্পের ঋণ শোধে বারবার পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। বিগত ১৪ বছরে ১৪ বার বেড়েছে পানির দাম।

ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান ঢাকাবার্তাকে বলেন, ঢাকা ওয়াসার সেবা আন্তর্জাতিক মানের নয়। অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে সংস্থাটি অনেক পিছিয়ে। নাগরিক সেবা দিতে এখনো ডিজিটাল ব্যবস্থায় যেতে পারেনি তারা। তাহলে ঢাকা ওয়াসা কী প্রশিক্ষণ দেবে।

আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, ঢাকা ওয়াসার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। সুশাসনের মারাত্মক ঘাটতি আছে। নিজেরা সুশাসনে ঘাটতি রেখে বিদেশিদের কী শেখাবে। তাই আগে নিজেদের আধুনিক করে, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে, সেবার মান বাড়িয়ে দুর্নীতি বন্ধ করে তারপর বিদেশিদের প্রশিক্ষণ দিলে সেটি কার্যকর হবে। ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করতে চায় রাজধানীর মিরপুরে। সেখানে তাদের তিন একরের মতো জমি রয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করতে ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে ৫১০ কোটি টাকা ঋণ পাওয়া যাবে দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে। ঢাকা ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ৬০ কোটি টাকা। বাকি ১৬৮ কোটি টাকা সরকারের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করছে সংস্থাটি। ঢাকা ওয়াসা প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর মন্ত্রণালয় তা অনুমোদনের জন্য গত সেপ্টেম্বর মাসে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্রকল্পটির একটি মূল্যায়ন সভা (পিইসি) অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নানা অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। যেমন ঢাকা ওয়াসা নিজস্ব জমিতে প্রশিক্ষণকেন্দ্র করার কথা বলা হলেও প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। ১০৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে পরামর্শকের পেছনে ব্যয় হিসেবে। যদিও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পরামর্শক খাতে ব্যয় কমাতে বলা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।

প্রকল্প প্রস্তাবে গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় হবে ২৯৫ কোটি টাকা। প্রশিক্ষণ ও গবেষণা যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় লাগবে ৪৯ কোটি টাকা। কিন্তু এসব ব্যয়ের বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এটা কোনো রকমে একটি প্রকল্প প্রস্তাব দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। এ ধরনের প্রকল্প সুনির্দিষ্ট থাকে না। অনুমোদন করাতে পারলে পরে ব্যয় ও মেয়াদ বারবার বাড়ানো হয়।

নিজেদের জমিতে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করলে কেন ৬০ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে, জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সহিদ উদ্দিন ঢাকাবার্তাকে বলেন, ‘নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। এই টাকা এমনি ধরা হয়েছে। অন্য কোথাও খরচের প্রয়োজন হবে।’

 

আরও পড়ুনঃ পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ, এক দিন পর জেলের লাশ উদ্ধার

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net