রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬

বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধিসহ ২ সাংবাদিককে সূত্রাপুর থানা পুলিশের মারধর

সূত্রাপুর থানার ওসি মইনুল ইসলামের সামনেই বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি আতিক হাসান শুভর গায়ে হাত তোলেন এক পুলিশ সদস্য

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধিসহ ২ সাংবাদিককে সূত্রাপুর থানা পুলিশের মারধর

ঢাকাবার্তা ডেস্ক।।

রাজধানীর কবি নজরুল কলেজে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি আতিক হাসান শুভ ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি যায়েদ হোসেন মিশুকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে সূত্রাপুর থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে রাজধানীর সদরঘাটের লালকুঠি ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেন, ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লঞ্চ যাত্রীদের মোবাইল ফোন ও ব্যাগ চেক করছিল পুলিশ। এসময় ছবি তোলায় তাদের ফোন কেড়ে নিয়ে কোর্টে চালান করে দেওয়ার হুমকি দেন পুলিশ সদস্যরা। এক পর্যায়ে টেনে-হিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান তারা।

সেখানে সূত্রাপুর থানার ওসি মইনুল ইসলামের সামনেই বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি আতিক হাসান শুভর গায়ে হাত তোলেন এক পুলিশ সদস্য। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন তারা। এরপর মোবাইল ফোন থেকে তল্লাশির ছবি ডিলিট করে প্রায় ২০ মিনিট ওই দুই সাংবাদিককে আটকে রেখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী সাংবাদিক আতিক হাসান শুভ গণমাধ্যমকে জানান, লঞ্চ থেকে নামা যাত্রীদের গণহারে তল্লাশি করছিল পুলিশ। এসময় সন্দেহভাজনদের ফোনও চেক করা হচ্ছিল। আমি তার ছবি তোলায় আমার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। আমি তাদের গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও একজন পুলিশ সদস্য আমাকে ধাক্কা দিয়ে আমার কাছ থেকে ফোন কেড়ে নেয়। পরে আমাকে টেনে লালকুঠি সংলগ্ন পুলিশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সূত্রাপুর থানার ওসি চেয়ারে বসে বসে সন্দেহভাজন সবার ফোন চেক করছিল। আমি ওসিকেও গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দেই এবং আমার আইডি কার্ড দেখাই। তখন পুলিশের আরেকজন সদস্য আমাকে পেছন থেকে চড়-থাপ্পড় দেয়। এ ঘটনার পর আমি বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমাদের প্রায় ২০ মিনিটের মতো ওই কক্ষে আটকে রাখে।

আরেক সাংবাদিক যায়েদ হোসেন মিশু বলেন, পুলিশ লঞ্চে আসা যাত্রীদের চেক করছিল। আমরা ঘটনাটি জানার জন্য যাই, কিছু ছবি তুলি। ছবি তুলতে দেখে তারা আমাদের উপর চড়াও হয়। আমাদের ফোন কেড়ে নিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে ওসির সামনে একজন পুলিশ সদস্য শুভর গায়ে হাত তোলে। আমি বিষয়টি দেখে অবাক। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও আমাদের সাথে এমন ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন,‘ এ ঘটনার সময় আমি ভেতরের রুমে ছিলাম। দুইটা ছেলে এসে কোনও কথাবার্তা ছাড়াই ছবি তুলছিল। তখন পুলিশ তাদের ধাক্কা দিয়ে বিআইডব্লিউটিএর একটা রুমে নিয়ে আসে। যখন শুনলাম তারা কবি নজরুলের, তখন আমি বললাম— ভুল বোঝাবুঝির কারণে এটা হতে পারে। যেহেতেু তোমাকে আমি চিনি না, তুমি আমাকে চেনো না।’  তিনি দাবি করেন, ‘একজন অপরিচিত কেউ যদি আমাদের ছবি তোলে, তাকে তো আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পারি।’

ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শনের পরও এমন আচরণ করার কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এটাতো গণপিটুনিও হতে পারতো। পরিচয় জানার পর আমি হ্যান্ডশেক করে চায়ের দাওয়াত দিয়ে বিদায় দেই।’ অভিযোগের জবাবে ওসি বলেন, ‘তাদের গায়ে হাত তোলা হয়নি। শুধু ধাক্কা দিয়ে আনা হয়েছে, এ সময় হালকা টানা-হেঁচড়া হয়েছে।’ তবে আতিক হাসান শুভ বলেন, ‘আমাকে উনার (ওসি) সামনেই চর-থাপ্পর দেওয়া হয়েছে।’

পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জিয়াউল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

আরও পড়ুন: চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা: আন্দোলনকারীদের একজনের ‘বিষপান’

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net