স্টাফ রিপোর্টার ।।
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সভায় আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ছয়জন নারী, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-এর তিন নেত্রী। সোমবার (৬ মে) দুপুরে ঢাকার একটি জজ কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে সাত দিনের মধ্যে হেফাজতের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে—কেন তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
নোটিশদাতারা হলেন:
- এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী,
- এনসিপির সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা,
- এনসিপির সদস্য নীলা আফরোজ,
- লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট উম্মে রায়হানা,
- লেখক ও শিক্ষক উম্মে ফারহানা,
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও সংস্কৃতিকর্মী ক্যামেলিয়া শারমিন।
নোটিশে প্রাপক হিসেবে “হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ” নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সৈয়দা নীলিমা দোলা প্রথম আলোকে জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত নয়— বরং ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁরা তিনজন (এনসিপির নেত্রী) এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন।
আইনি নোটিশে হেফাজতের প্রতি অভিযোগ তোলা হয়েছে, তারা শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মতভেদপূর্ণ সহাবস্থান রক্ষায় বিশ্বাসী নয়। বরং তারা কমিশনের বিরুদ্ধে “অসম্মানজনক ও মানহানিকর বক্তব্য” দিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, হেফাজতের নেতারা কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে কোনো ধরনের গঠনমূলক আলোচনায় না গিয়ে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করেছেন, যা আইন ও ধর্ম—দুটোরই পরিপন্থী। এসব বক্তব্য দলগতভাবে অনুমোদিত বলেই বিবেচিত হওয়ায় দায়ও দলের ওপর বর্তায়।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় “মানহানিকর অপরাধ” হিসেবে গণ্যযোগ্য বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
