জীবনধারা ডেস্ক ।।
দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এটি জীবনকে সহজ করলেও অসচেতনভাবে ব্যবহার করলে ঋণের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য অসতর্কতাই মানুষকে ঋণের ফাঁদে ফেলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো বিল না দেওয়া, বাজেটের বাইরে খরচ বা নগদ টাকা তোলা—এসব কারণে অল্প ঋণও দ্রুত ফুলে–ফেঁপে ওঠে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে মোটাদাগে ১১টি খাতে ক্রেডিট কার্ড বেশি ব্যবহৃত হয়। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, খুচরা কেনাকাটা, বিভিন্ন পরিষেবার বিল প্রদান, নগদ উত্তোলন, ওষুধ ও ফার্মেসি, পোশাক কেনাকাটা, অর্থ স্থানান্তর, পরিবহন খাতে ব্যয়, বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও পেশাদারি সেবা এবং সরকারি সেবার বিল প্রদানে। বাংলাদেশে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক (বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) প্রথম ক্রেডিট কার্ড সেবা নিয়ে আসে। বর্তমানে দেশে ৪০টির মতো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে।
১. বাজেটের বাইরে খরচ
রিওয়ার্ড পয়েন্ট বা ক্যাশব্যাক অফারের প্রলোভনে অনেকেই মাসিক আয়ের তুলনায় বেশি খরচ করেন।
উদাহরণ: মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা হলে সর্বোচ্চ ১৫–১৭ হাজার টাকার বেশি কার্ডে খরচ না করাই ভালো। কিন্তু কেউ যদি শুধু ছাড়ের জন্য ৩০ হাজার টাকার মোবাইল কিনে ফেলেন, তা হলে মাসের শেষে অন্য খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যায়।
২. শুধু ন্যূনতম টাকা পরিশোধ
প্রতি মাসে ন্যূনতম টাকা পরিশোধ করলে বাকি অঙ্কে উচ্চহারে সুদ আরোপ হয়। ফলে ঋণ দ্রুত বেড়ে যায়।
উদাহরণ: যদি আপনার কার্ড বিল হয় ২০ হাজার টাকা এবং আপনি শুধু ২ হাজার টাকা (ন্যূনতম) পরিশোধ করেন, বাকি ১৮ হাজার টাকার ওপর ২০–৩০% বার্ষিক হারে সুদ জমতে থাকে।
৩. একাধিক কার্ডে নির্ভরতা
বেশি কার্ড ব্যবহার করলে আসল ঋণের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় এক কার্ডের বিল মেটাতে আরেকটি কার্ড ব্যবহার করা হয়, যা আরও বিপজ্জনক।
উদাহরণ: একটি কার্ডে ৩০ হাজার টাকার বিল মেটাতে অন্য কার্ড থেকে ২৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া মানে নতুন ঋণের বোঝা তৈরি করা।
৪. বিল পরিশোধে দেরি
নির্দিষ্ট তারিখের পর বিল পরিশোধ করলে জরিমানা, ক্রেডিট স্কোর হ্রাস এবং সুদমুক্ত সময়ের সুবিধা চলে যায়।
উদাহরণ: কার্ডের বিল ১৫ তারিখে দেওয়ার কথা, কিন্তু ২০ তারিখে দিলে কেবল লেট ফি নয়, আপনার ক্রেডিট রেকর্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৫. কার্ড থেকে নগদ তোলা
এটিএম থেকে টাকা তুললেই সঙ্গে সঙ্গে সুদ শুরু হয় এবং সুদমুক্ত সময় বাতিল হয়।
উদাহরণ: ১০ হাজার টাকা নগদ তুললে সেই মুহূর্ত থেকে সুদ গণনা শুরু হবে এবং মাস শেষে বিলের সঙ্গে বাড়তি সুদ যোগ হবে।
৬. নানা অফারে ফেঁসে যাওয়া
“ইএমআই ফ্রি” বা “বাই নাউ পে লেটার”–এর মতো অফারে লুকানো চার্জ থাকে। এগুলোতে যৌগিক সুদ দ্রুত বাড়তে পারে।
উদাহরণ: ৫০ হাজার টাকার একটি পণ্য “ইএমআই ফ্রি” অফারে কিনলেও প্রসেসিং ফি, ভ্যাট বা লুকানো চার্জ মিলিয়ে খরচ দাঁড়াতে পারে ৫৫ হাজার টাকা।
ক্রেডিট কার্ড জীবনকে সহজ করে, তবে সচেতন ব্যবহার না করলে তা ঋণের ফাঁদে পরিণত হয়। পরিকল্পিত খরচ, সময়মতো বিল পরিশোধ ও অপ্রয়োজনীয় অফারে না ফাঁসাই হতে পারে সুরক্ষার উপায়।
