ডেস্ক রিপোর্ট ।।
রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সি নাভালনিকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল বলে নতুন দাবি করেছেন তার স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে নাভালনির দেহ থেকে সংগৃহীত কিছু নমুনা গোপনে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। দুটি দেশের আলাদা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে তাতে বিষপ্রয়োগের প্রমাণ মেলে। তবে কোন দেশ বা কী ধরনের বিষ ব্যবহার হয়েছিল তা খোলাসা করেননি তিনি।
৪৭ বছর বয়সী নাভালনির মৃত্যু হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আর্কটিক সার্কেলের এক কারাগারে। নাভালনায়া শুরু থেকেই স্বামীর মৃত্যু হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করে আসছেন, যদিও ক্রেমলিন তা ভিত্তিহীন দাবি বলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মৃত্যুর আগে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় নাভালনিকে পশ্চিমা দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা চলছিল।
এক্সে দেওয়া ভিডিও বার্তায় নাভালনায়া বলেন, “দুই দেশের ল্যাব একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে—আলেক্সিকে হত্যা করা হয়েছিল, বিশেষভাবে বললে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে।” তিনি মনে করেন, এই ফলাফল জনস্বার্থে প্রকাশ করা জরুরি, কারণ সত্য জানার অধিকার সবার আছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। রুশ কর্তৃপক্ষ বরাবরই নাভালনির মিত্রদের ‘পশ্চিমাদের হয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা চরমপন্থি’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। নাভালনি নিজে পুতিনের রাশিয়াকে ‘অপরাধচক্রনির্ভর দুর্বল রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
২০২১ সালে চিকিৎসা শেষে জার্মানি থেকে দেশে ফিরে তিনি কারাগারে বন্দি হন। এর আগে পশ্চিমা পরীক্ষায় প্রমাণ হয়েছিল, সাইবেরিয়ায় তার ওপর নার্ভ এজেন্ট দিয়ে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। রুশ কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে নানা শারীরিক জটিলতার কথা বললেও নাভালনায়া সেই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অবশ্য বলেছে, পুতিন নাভালনিকে হত্যার নির্দেশ দেননি। তবে নাভালনায়া ভিডিওতে স্বামীর মৃত্যুর শেষ মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দেন—ব্যায়ামের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন নাভালনি, পরে পানিশমেন্ট সেলে বমি করতে করতে মারা যান।
তিনি একটি ছবিও প্রকাশ করেন, যা ওই পানিশমেন্ট সেলের বলে দাবি করেন, যেখানে বমির অস্তিত্ব দেখা যায়। তার ভাষায়, নাভালনির মৃত্যু নিয়ে সত্য অজ্ঞাত থাকা অনেক পশ্চিমা রাজনীতিকের জন্যও অস্বস্তিকর বিষয়।
