ডেস্ক রিপোর্ট ।।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘মূলত এটি আমাদের দেখার বিষয় নয়।’ যদিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দক্ষিণ এশিয়ার এই সংকটে সক্রিয় হন। কারণ, আশঙ্কা ছিল—এই সংঘাত পারমাণবিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে ভারতের আকাশসীমায় পাকিস্তানের পাঠানো শত শত ড্রোন ও বিমানবাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষ উদ্বেগ বাড়ায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন রাওয়ালপিন্ডির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি নূর খানে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘাঁটিটি পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে জড়িত কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগের (SPD) কাছেই অবস্থিত।
কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়। মার্কিন প্রশাসন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত আসার পর।
পেন্টাগনে জরুরি বৈঠক হয়। হোয়াইট হাউসও বুঝে নেয় যে কেবল বিবৃতি আর ফোনালাপ যথেষ্ট নয়। শেষপর্যন্ত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন—ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
এর আগে সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নূর খান ঘাঁটিতে হামলা ছিল ভারতের পক্ষ থেকে ‘বার্তা’ যে তারা চাইলে পাকিস্তানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অকার্যকর করতে পারে।
এ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির বৈঠক ডাকলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ দাবি করেন, বৈঠক হয়নি। তবে তিনি পরমাণু অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, এটি ‘দূরবর্তী সম্ভাবনা’ এবং আলোচনার বিষয় নয়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁর বার্তা ছিল—এই সংঘাত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। যদিও মোদি কোনো প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
একইসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও পাকিস্তানি ও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে আলাপ করেন। এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে এবং যুদ্ধবিরতির পথ খুলে দেয়।
