স্টাফ রিপোর্টার ।।
গত বছরের বন্যায় গৃহহারা হওয়া ৩০০ পরিবারকে নতুন ঘর হস্তান্তর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। সরকারের নির্দেশনায় ওই চার জেলায় গৃহহীন ও অসহায় ৩০০ পরিবারের জন্য টেকসই ঘর নির্মাণ করা হয়।
প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেট রয়েছে। দুটি ভিন্ন ডিজাইনের মধ্যে উপযুক্তটি বেছে নিয়ে পরিবারগুলোর নিজ নিজ জমিতে ঘর তৈরি করা হয়েছে। একটি ঘরের আয়তন ৪৯২ থেকে ৫০০ বর্গফুট, ব্যয় হয়েছে গড়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা করে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা, যা এসেছে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে। নির্মাণ কাজটি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ইউনূস বলেন, “যারা বাড়ি পেয়েছেন, সবাইকে অভিনন্দন। দেশের মানুষ আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এই সাহস মনের মধ্যে রাখবেন।”
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, স্থানীয় প্রকৌশলী ও আশ্রয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “ছোট একটি প্রকল্প হলেও সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।”

লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ভবিষ্যতেও এমন দায়িত্ব পেলে সেনাবাহিনী প্রস্তুত থাকবে। তিনি জানান, ৩০০ ঘরের মধ্যে ২৯৮টি ইতিমধ্যে নির্মিত হয়েছে। বাকি দুটি ঘর জমি-জটিলতা কাটলেই নির্মাণ হবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান।
চার জেলার উপকারভোগী কয়েকজন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আশ্রয়ন-২ প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী।
