ডেস্ক রিপোর্ট ।।
ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। মঙ্গলবার আদালতের ৭-২ ভোটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এসময় দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন উপপ্রধানমন্ত্রী সুরিয়া জুংরুংরুয়াংকিত।
সম্প্রতি কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পেতংতার্ন ও সাবেক কম্বোডিয়ান প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। এতে থাই সেনা কর্মকর্তাদের সমালোচনা এবং হুন সেনকে ‘আংকেল’ সম্বোধন করে নমনীয় অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়। রাজধানী ব্যাংককে ব্যাপক বিক্ষোভ হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ওঠে। পরে সাংবিধানিক আদালতে এ বিষয়ে পিটিশন দায়ের করা হয়।
থাইল্যান্ডে সেনাবাহিনীর ব্যাপক প্রভাব থাকায় এর প্রকাশ্য সমালোচনা সচরাচর দেখা যায় না। ফলে ফোনালাপের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বড় বিতর্কে রূপ নেয়। যদিও পেতংতার্ন দুঃখ প্রকাশ করেন, তবু তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ২০২৪ সালের আগস্টে থাই পার্লামেন্টের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন ৩৭ বছর বয়সে দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। থাকসিন সিনাওয়াত্রার কনিষ্ঠ কন্যা পেতংতার্ন রাজনৈতিক জীবনে আসেন ২০২১ সালে এবং ফিউ থাই পার্টির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনের কিছুদিন আগে তিনি দ্বিতীয় সন্তানের মা হন এবং ভোটে জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। থাকসিন পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন তিনি। তাঁর ফুপু ইংলাক সিনাওয়াত্রাও আগে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
