স্টাফ রিপোর্টার ।।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেছেন, নতুন চালু করা ‘সার্কুলার সিস্টেম’ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর একটি বিসিএস সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে এতে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো কমিশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতার অভাব।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পিএসসি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের রূপান্তর: অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও সামনে এগোনোর পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।
মোবাশ্বের মোনেম জানান, বিসিএস প্রক্রিয়া এক বছরে শেষ করতে প্রতি বছরের ১ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং পরের বছরের ৩০ অক্টোবর ফল প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে এবং বর্তমানে খাতা মূল্যায়ন পুরোপুরি এভাবেই করা হচ্ছে। তবে এ জন্য বিধি পরিবর্তনের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠালেও চার মাস ধরে তা অনুমোদিত হয়নি।
সভায় প্রধান অতিথি অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পিএসসিকে শক্তিশালী করতে পরিচালনগত স্বায়ত্তশাসন অত্যন্ত জরুরি। তবে আর্থিক স্বায়ত্তশাসন দিতে হলে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মানতে হবে এবং তা নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা দরকার।
বিশেষ অতিথি আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একটি বিসিএস এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে কোটাপদ্ধতি, প্রশ্নফাঁস, মৌখিক পরীক্ষায় কারচুপি ও রাজনৈতিক কারণে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার মতো অনাচার ঘটেছে।
সাবেক আমলা ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “এখন সরকারি কর্মচারীদের মান দেখে দুঃখ হয়।”
পিএসসি সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান, পিএসসি সদস্য এম সোহেল রহমান, সচিব মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের উপমিশন প্রধান ডিপেক এলমার, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার প্রমুখ। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
